লাভ জেহাদ ইস্যুতে ফের মামলা খারিজ এলাহাবাদ হাইকোর্টের
দীপেন্দু চৌধুরী
বছর শেষের আগে
আবারও একবার লাভ জেহাদ ইস্যুতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট একটি মামলার রায়ে জানিয়ে দিল,
প্রাপ্তবয়স্ক দু’জন ব্যক্তির নিজের ইচ্ছেমতো জীবনসঙ্গী ঠিক করার অধিকার আছে। সারা
দেশে লাভ জেহাদ ইস্যুতে যখন বিতর্ক চলছে, সেই সময় একটি হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করার
কারণে একজন মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ এফআইআর করে। সম্প্রতি এলাহাবাদ
হাইকোর্টের বিচারপতি পঙ্কজ নকভি ও বিচারপতি বিবেক অগ্রবালের বেঞ্চ ভিনধর্মী বিয়ের
বৈধতা বহাল রেখেই পুলিশের করা এফআইআর খারিজ করে দিয়েছেন। ১৮ ডিসেম্বর এক হেবিয়াস
কর্পাস পিটিশনের মামলার রায়ে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, মেয়েটির নিজের পছন্দে জীবন
কাটানোর অধিকার আছে। কারণ শিখা নামের মেয়েটির স্কুল সার্টিফিকেট অনুসারে সে প্রাপ্তবয়স্ক।
তাই তাঁর নিজের পছন্দের জীবনসাথী বছে নেওয়ার অধিকার আছে। তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকার
ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী সেই অধিকার তাঁর আছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর
মাসে উত্তরপ্রদেশের এটাওয়া জেলার কোতোয়ালি দেহাত পুলিশ সলমন ওরফে করন নামে এক মুসলিম
যুবকের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩৬৬ ধারায় মামলা করে। এই মামলার অভিযোগে লেখা
হয়, একজন মহিলাকে প্রলোভন দেখিয়ে বা অপহরণ করে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছে। সলমন
নামে ছেলেটি শিখাকে প্ররোচিত করেছে। পুলিশের এফআইআরের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ ডিসেম্বর
এটাওয়ার মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দেন, শিশু কল্যাণ সমিতির হোমে
শিখাকে রাখতে হবে। পরে সমিতি শিখার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে তাঁর বাবা-মার কাছে
পাঠিয়ে দেয়। এলাহাবাদ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ও শিশু
কল্যাণ সমিতির আচরণ যথাযথ আইনি বিধি মেনে হয়নি। হাইকোর্ট বলে, শিখার হাই স্কুলের
সার্টিফিকেটে জন্ম তারিখ দেওয়া আছে ১৯৯৯ সালের ৪ অক্টোবর। সেই অনুসারে সে
প্রাপ্তবয়স্ক।
‘লাভ জেহাদ’
আটকাতে গ্রেফতারি অভিযান করেই চলেছে যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ। ধর্মান্তরণ বিরোধী
আইনে উত্তরপ্রদেশের কনৌজ থেকে দু’টি ভিন্ন ভিন্ন ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে দুই
ব্যক্তিকে। তাদের বিরুদ্ধেও ‘লাভ জেহাদ’-র অভিযোগ কনৌজ পুলিশের। বিজেপি দলগতভাবে
লাভ জিহাদকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। ২০১৪ সালের একটি ঘটনার
প্রসঙ্গ উল্লেখ করা যায়। ওই বছর নির্বাচনের আগে উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগরে একটি
দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। দাঙ্গার কারণ হিসেবে জানা যায় একটি মুসলমান ছেলে এবং একটি
হিন্দু মেয়ের প্রেম কাহিনীর ভিডিও। এই ভিডিওটি ২০১৪ সালের নির্বাচনের কয়েকমাস আগে
থেকে ব্যপকভাবে প্রচার করা হয়। প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছিল ভিডিওটির
মাধ্যমে সত্য একটি ঘটনা মানুষকে জানান হছে। পরিকল্পিত পরিকল্পনা অনুযায়ী দলগতভাবে বিজেপি এই
কর্মসূচী নিয়েছিল। পরে প্রমাণিত হয় ভিডিওটি জাল। হিন্দু ভাবাবেগকে ব্যবহার করে
দাঙ্গা সংগঠিত করার উদ্দ্যেশ্য নিয়েই উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা ভিডিওটি প্রস্তুত
করেছিল। আসল উদ্দ্যেশ্য ছিল নির্বাচনে জয়লাভ করা।



Comments
Post a Comment