বামপন্থীদের ‘গণ আদালত’ দিদিকে বলো
দীপেন্দু চৌধুরী
আবার পুরনো কথা বলতে হয়, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং
তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস শহরের কয়েকজন বুদ্ধিজীবী এবং উচ্চ শিক্ষিত নাগরিক সমাজের
সমর্থনের বিষয়ে খুব বেশি চিন্তিন নয়।
তাঁরা ভোট দিলেন বা অথবা দিলেন না। লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ৩৪
থেকে ২২ টা আসনে নেমে এলেও কলকাতার দু’টো আসনে তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছে।
তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রামীণ সমাজের ভিত্তিকেই ধরে রাখতে বেশি
আগ্রহী। সবুজ সাথী, কন্যাশ্রী, রুপশ্রী, স্বাস্থ্য সাথীর মতো জনপ্রিয় প্রকল্প
রাজ্য সরকারের রয়েছে। তাপরেও লোকসভা ভোটে ধস নেমেছে। বাস্তব এই বিষয়টা তৃণমূল
কংগ্রেস নেতৃত্বকে মনে রাখতে হচ্ছে।
এই নিবন্ধে কয়েকটি নাম আসবে। কিছু পুরনো ঘটনার উল্লেখ থাকবে। তার থেকে এটা
ধরে নেওয়া উচিৎ হবে না যে আমি সেইসব ব্যক্তির শত্রু। অথবা নির্দিষ্ট একটি দু’টি
রাজনৈতিক দলের বিরোধী। রামন ম্যাগসাইসাই পুরষ্কার পাওয়ার পর যে কথা প্রবীণ
সাংবাদিক রবীশ কুমার বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর
বিরোধী বা শত্রু নই। তার সরকার এবং দলের জনবিরোধী সিদ্ধান্ত এবং কাজের সমালোচক।’ রবীশ
কুমারের সঙ্গে গলা মিলিয়ে আমিও উচ্চারণ করছি, শ্রমজীবী সাংবাদিক, প্রতিবেদক হিসেবে
আমিও নির্দিষ্ট কোনও দল বা ব্যক্তির শত্রু নই। যেহেতু বিষয়টা ‘দিদিকে বলো’ তাই
কয়েকটি বিতর্কিত বিষয় এসে যাবেই।
সালটা ২০০৪, লোকসভার প্রচার চলছে।
আমি ‘জি নিউজ’-এর সাংবাদিক হিসেবে কলকাতার লাগোয়া চৌবাগা গিয়েছি। ‘ক্যামেরাম্যান’
হিসেবে নয়। আমার সঙ্গে ক্যামেরাম্যান ছিল। এই বাক্যটি লিখতে হল কারণ একজন
পরশ্রীকাতর ‘বামপন্থী নেতা’ আমাকে ‘ক্যামেরাম্যান’ বলে প্রচার করে আজও আত্মতুষ্টি
লাভ করেন। তিনি আধুনিক সভ্যতার খোজ রাখতেন না। গত ১৫ বছর আমাকে এবং আরও কাউকে কাউকে এই ‘নাকউঁচু’
স্বঘোষিত বামপন্থী নেতাটি ব্যক্তিগত আক্রমণের নিকৃষ্টতম উদাহারণ হয়ে আছেন। যত
রকমের ব্যক্তিগত আক্রমণ, ঘাত- অভিঘাত এবং অত্যাচার করা যায় তার সব প্রচেষ্টা তিনি
চালিয়ে গেছেন আরও কয়েকজনের সহযোগিতায়। এবং এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন নিজস্ব কৌশলে।
কলকাতা প্রেস ক্লাবে, বিভিন্ন বিদেশী কনসাল জেনারেল অফিসে, নবান্নে এবং আরও
বিভিন্ন স্থানে। সেইসব ঘটনাগুলিকে অত্যন্ত নিম্নমানের বলেই আখ্যায়িত করতে হয়। গত
পনের কুড়ি বছর আগে থেকেই বিদেশের প্রথমসারির সাংবাদিকরা নিজেদের প্রয়োজনে ক্যামেরা
রাখতেন এবং ব্যবহার করতেন। সেই বিষয়টি ওই নেতাটির জানা ছিল না। জানতে তিনি আগ্রহীও
নন। তথাকথিত সুচতুর এবং কৌশলী এবং বিতর্কিত নেতাটির নিজের দলে উচ্চপদে পদোন্নতি
হয়েই চলেছে। এবং এটাই স্বাভাবিক।
২০০৪ সালের চৌবাগায় তৃণমূল কংগ্রেসের জনসভার কথা বলছিলাম, আমার হাতে ‘জি
নিউজ’-এর বুম, সঙ্গে ‘ই টিভি’ এবং আরও একটি কেবল টিভির বুম আমার হাতে ধরা। আর ছিল ‘দূরদর্শন’-র সাংবাদিকের হাতে
বুম। দিদি এলেন। মঞ্চে ওঠার সময় আমি প্রশ্ন করলাম, ‘প্রমোদ মহাজন তৃণমূল কংগ্রেসের
একজন সাংসদের বাড়িতে চা-চক্রে যোগ দিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আপনার
অবস্থান কি?’ তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আলোচনা করলাম না। ‘দিদি’ কোনও উত্তর না
দিয়ে গট গট করে মঞ্চে উঠে গেলেন। মঞ্চের বক্তব্য শেষ হলে তিনি নেমে আসার সময় আমি
আবার প্রশ্ন করলাম এবং বললাম, ‘ম্যাডাম কিছু বলুন?’ দিদি কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিলেন।
ফিরে এসে আমার হাতে হাত দিয়ে তিনটে বুম দেখলেন। বুঝতে চেষ্টা করলেন আমি কোন
চ্যানেল থেকে প্রতিনিধিত্ব করছি।
তারপর সপাটে তিনি বললেন, ‘আপনি আমাদের দলে জয়েন করুন। আমরা কেন্দ্রীয়
কমিটিতে নিয়ে নেব।’ চার চারটে টিভি চ্যানেলের বুমের সামনে তিনি আমাকে সেদিন
নির্ভীক এবং সৎভাবে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যেটা আজও চ্যানেলগুলির ‘আর্কাইভ’-এ সম্ভবত
আছে। আমি বলতে চাইছি এই হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘জননেত্রী’, ‘মাস লিডার’। তিনি আমার রাজনৈতিক অবস্থান জেনেও আমাকে প্রস্তাব
দিলেন। কারণ আমরা জানি পরের বছরগুলিতে বিভিন্ন দল, রাজনৈতিক গোষ্ঠীর
ব্যক্তিদের তিনি এক ছাতার তলায় আনবেন।
সিঙ্গুর- নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রয়োজনে। অনেকটা ফেডারেল ফ্রন্টের আদলে। ২০০৪ থেকে
২০০৯ সালের রাজনৈতিক ইতিহাস প্রতিটি সচেতন সাংবাদিক, রাজনীতিবিদের জানা আছে। ২০০৯
সালের লোকসভা নির্বাচন। আমি তখন কলকাতা টিভির সিনিয়র সাংবাদিক। হঠাৎ রাত ন’টার সময়
আমার মোবাইলে ফোন এল। ফোন করেছেন, পরশ্রীকাতর সেই নাকউঁচু বামপন্থী নেতাটি।
তার সঙ্গে ভাঙড়ের কাছে এক গ্রামে যেতে হবে। সিপিএম-তৃণমূল কংগ্রেসের
সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বামপন্থী নেতাটি নিজেও সে বছর লোকসভার প্রার্থী। যদিও
হেরে গিয়েছিলেন। আমি ফোনে জানালাম আমি কলকাতার ‘বিট’ করি। আমাদের জেলা সাংবাদিক এবং ক্যামেরাম্যান আলাদা আছে।
তিনি আমার কথা গুরুত্ব না দিয়ে আমাকে একরকম নির্দেশ বা হুমকি দিলেন। আমি আস্তে
বাধ্য হলাম। নেতাটির নির্দেশে আমার একলাখ টাকা দামের সনি কোম্পানীর পিসি ৯ই মডেলের ভিডিও ক্যামেরাটা সঙ্গে নিলাম। যে
ক্যামেরা গত ১০ বছর পরিত্যাক্ত অবস্থায় ব্যাগবন্দি হয়ে পড়ে আছে। সেদিন ডেকে নিলাম
আমাদের চ্যানেলের জেলার ক্যামেরাপার্সনকে। ক্যামেরাপার্সন আমাদের অঞ্চলেই থাকে। ক্যামেরপার্সন আসার আগে আমি দোর্দণ্ডপ্রতাপ ওই নেতার দলের তৎকালীন স্থানীয়
জোনাল কমিটির অফিসে পৌঁছে গেলাম। নেতাটি এবং তার দলের কর্মীরাও সেখানে ছিলেন। একজন
কর্মী আমাকে দেখেই বলল, ওই যে ‘ক্যামেরাম্যান’ এসে গেছে। আমি বললাম, আমদের
চ্যানেলের ক্যামেরাম্যান আসছে।
কিন্তু তারপরেও নেতাটির কয়েকজন কর্মী আমাকে সমানে আক্রমণ করে গেল। উত্যক্ত
করতে চেষ্টা করল। সেখানে গণশক্তির জেলা
প্রতিনিধিও হাজির। একটা সময় উত্তেজনা চরমে উঠলে নাকউঁচু বামপন্থী নেতাটি আমার
চোয়াল চেপে ধরে আমাকে মৃদু দৈহিক অত্যাচার করল। নিগৃহীত বলা চলে। চুপচাপ সহ্য
করলাম। আমাদের ক্যামেরাপার্সন আস্তেই পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে এল। রাত তিনটে পর্যন্ত
নেতাটির সঙ্গে থেকে চার পাঁচটা গ্রামে গিয়ে খবর করলাম। এর মধ্যে আমি সেই নেতাটিকে
জিগ্যেস করেছিলাম, ‘দাদা চাকরিটা থাকবেতো?’ ভদ্রলোক আমার সম বয়সী। আমাকে নাম ধরে
ডাক্তে বলেছিলেন প্রথমদিনের পরিচয়ের সময়। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, দেখা যাক। সময়ের সঙ্গে
সঙ্গে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। আমরা এক বছরের বেতন না পেয়ে ‘কলকাতা টিভি’-র
চাকরি ছাড়ি। আজও সেই বেতন পাইনি। ২০১১ সালের পর আমার আর ‘আক্রিডিটেড কার্ড’ রিনিউ
হয়নি। অথচ আজও আমি সাংবাদিকতা করে যাচ্ছি। মুক্ত সাংবাদিকতা (Freelance Journalism) বলতে পারি। আমার
নবান্নের সরকারি কার্ড না থাকার কারণে আমি ‘মা ভৈ’ প্রকল্পভুক্ত হতে পারিনি।
সাংবাদিকরা চিকিৎসাক্ষেত্রে যে সব সরকারি সুযোগ পায়, আমি বা আমার মতো যারা আছেন
তাঁরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
পরের বছর ২০১০ সাল।
বাজারে গুঞ্জন, একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দলের এক শীর্ষনেতা আমাকে সাংবাদিকতা থেকে
সরিয়ে নিজেদের দলের সর্বক্ষণের কর্মী নিয়োগ করতে চাইছেন। আমি প্রেস ক্লাবে আমার এক
সাংবাদিক বন্ধু এবং একজন পারবারিক বন্ধুর কাছ থেকে খবরটা পেলাম। দলটির সেই নেতাটি
বিভিন্নভাবে চেষ্টা করলেন। আমাকে রাজি করাতে। আমি রাজি হইনি। অবশেষে ২০১০ সালে
‘প্রাত্যহিক খবর’ নামে একটা দৈনিক পত্রিকায় সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে জয়েন করলাম। ২০১১
সালের মে মাসে ‘ভোরের বার্তা’ নামে একটি দৈনিকে জয়েন করেছিলাম।
২০১১ সালের মার্চ মাসে একদিন বিধানসভায় বিরোধীদলনেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের
ঘরে আমি সাংবাদিক হিসেবে একাই আছি। পার্থদার সামনে প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব
চট্টোপাধযায়, বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং আরও কয়েকজন নবীন বিধায়ক। হঠাত পার্থদা বললেন, ‘এই সব কালীঘাট চলো দিদি ডাকছেন। মিটিং আছে।’ কেউ একজন
জানতে চাইল ‘দিদি ফোন করল? পার্থ চ্যাটার্জী উত্তর দিলেন। ‘না। চ্যানেল টেনে সাংবাদিক
কুনাল ঘোষ ফোন ইন দিচ্ছে। তাতেই ও বলল, তৃণমূল কংগ্রেসের সব বিধায়কের সঙ্গে
তৃণমূলনেত্রী বৈঠক করবেন।’ পার্থবাবু সেদিন স্বগোক্তি করেছিলেন, ‘দলের বৈঠকের কথা
টিভির মাধ্যমে আজকাল জানতে হচ্ছে।’ প্রসঙ্গটি উল্লেখ করলাম এই জন্য ‘দিদিকে বলো’
অনেকের কাছে নতুন মনে হতে পারে। কিন্তু আমাদের কাছে নতুন নয়। কারণ মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায় সেদিন সাংবাদিক কুনাল ঘোষকে বিধায়কদের বৈঠকে ডাকার কথা নিজে
বলেননি। কুনাল ঘোষ নিজস্ব সূত্রে খবরটি সংগ্রহ করে ‘ব্রেকিং নিউজ’ হিসেবে ফোন ইন
দিয়েছিলেন। সম্ভবত জননেত্রী হিসেবে মমতা সেটাই চেয়েছিলেন। কারণ আধুনিক প্রযুক্তিকে
কাজে লাগাতে হয়। সেদিন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পার্থ চ্যাটার্জীর ঘরে আমি নিজেও
কুনাল ঘোষের ‘ফোন ইন’ শুনেছিলাম।
২০১৯ সালে এসে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘দিদিকে বলো’ অ্যাজেন্ডা। আদি তৃণমূল
কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা বলছেন, দেখ কেমন লাগে। যদিও আজকের পরে এই অ্যাজেন্ডা কতটা
জনপ্রিয় থাকবে? তা সময় বলবে। কারণ ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের
সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নবান্ন সূত্রে খবর,
লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরে পরেই সরকারিস্তরে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের অধীনে অভিযোগ
নেওয়া হচ্ছে। গত এক মাসে এ পর্যন্ত ২৩০০ অভিযোগ জমা পড়েছে। যদিও সব অভিযোগেই যে
সারবত্তা আছে এমনটা নয়। বাছাই করে ১৮০০ অভিযোগ কলকাতার বিভিন্ন দফতর, জেলাশাসকের
অফিস এবং পুলিশ সুপারদের কাছে ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশ দিয়ে পাঠানো হয়েছে। নবান্ন সূত্রে আরও খবর সব থেকে বেশি অভিযোগ এসেছে বিভিন্ন পুরসভার পরিষেবা
বিষয়ে। পঞ্চায়েতস্তরের বেশিরভাগ অভিযোগ রাজনৈতিক। সম্ভবত সেই কারণে ভোট কুশলী
প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ মেনে ডাকাবুকো মন্ত্রী থেকে, তৃণমূলের নেতা, বিধায়ক
গ্রামে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের বাড়িতে রাত কাটচ্ছেন। আসনপিঁড়ি হয়ে বসে দিনরাতের
খাবার খাচ্ছেন।
ঠিক এই বিষয়টাকে উল্লেখ করে আমরা মনে করতে চাইছি, বামপন্থীদের স্লোগান ছিল
‘গ্রামে চলো’। সিপাআই, সিপিএম দু’টি কমিউনিস্ট পার্টী থেকে নিজেদের আলাদা করে
সিপিআই (এম এল) দলের তরুণ সদস্যরা বা
নকশালপন্থীরা একটা সময়ে গ্রামে গিয়ে দিনের পর দিন সাধারণ মানুষের ডেরায়
থেকেছে। এই পরিচিত আদলটার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের বিলাস বাসন ছেড়ে গরিব
মানুষের বাড়িতে একদিন কাটানোর আখ্যানটা মিলে যাচ্ছে। আবার ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচীও
বামপন্থীদের ‘গণ আদালত’ সংস্কৃতির কাছাকাছি। পার্থক্য অবশ্যই আছে। সশস্ত্র মাওবাদীদের ‘গণ
আদালত’-এ বিচার মানে অনেক সময় মৃত্যুদণ্ড। তৃণমূল কংগ্রেসের আলোচ্য কর্মসূচী
অহিংস। প্রশান্ত কিশোর আপনাকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারছি না। আপনি একজন পেশাদার
পরামর্শদাতারমতোই ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচীর প্রস্তাব দিয়েছেন। আধুনিক রাজনীতিতে
স্নগজোজন হিসেবে এটা একটা মাইলস্টোন হয়ে থাকবে। যদিও বিরোধী দল সিপিএম বলছে,
‘দিদিকেই বলছি’। সিপিএমের এই অ্যাজেন্ডায় ১০ দফা প্রশ্ন আছে। অবশ্য সেইসব প্রশ্নের
তালিকায় ‘পরিবেশ’ এবং বায়ুদূষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নেই। সিপিএমে
উচ্চশিক্ষিত পরিবেশ বিঞ্জানী আছেন। কিন্তু এই বিষয়গুলি কেন দলগতভাবে তুলছেন না
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব? প্রশান্ত কিশোরের
পরামর্শে ১৫ অগস্টের অনুষ্ঠানে তিনটে নতুন ট্যবলো তৈরি করছে রাজ্যের তথ্য সংস্কৃতি
দফতর। ট্যাবলোগুলি হচ্ছে পরিবেশ, বিদ্যুৎ এবং জল সংরক্ষণের মতো সামাজিক বিষয়।
রাজ্য বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দিদিকে বলো’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে
পাল্টা স্লোগান তৈরি করেছে, ‘দিদিকে নয় মোদীকে বলো’। সম্প্রতি বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি শিবরাজ সিংহ চৌহান কলকাতায় বলেছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, দিদিকে বলো। আর জনতা বলছে, দিদিকে ছাড়,
মোদীকে বলো।‘’
সারা দেশের মানুষ একজোট হচ্ছে মোদীকে বলার জন্য। দাবি করছেন তৃণমূলনেত্রী
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দল এবং কাশ্মীরের মানুষের সঙ্গে কথা না বলে সংবিধানের
৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ করা হল কেন? প্রশ্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আমরা আমাদের রাজ্যে
অপেক্ষায় থাকব ২০২১-এর জন্য। বাস্তববাদী মমতার সঙ্গে বাস্তববাদী (প্রগম্যাটিজম-এর
অনুসারী) মোদীর লড়াই আমাদের কতটা উন্নত রাষ্ট্র তথা উন্নত রাজ্যের সীমানা চেনাতে
পারে সেই অপেক্ষায় থাকব। আমাদের রাজ্যে
কংগ্রেস এবং বামপন্থীদের স্বক্রিয় ভূমিকা এক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরী। 



Comments
Post a Comment