বাম-কংগ্রেস এবং আইএসএফের ব্রিগেডে ছিল তারুণ্যের স্পর্ধা
দীপেন্দু চৌধুরী
বিধানসভা ভোটের আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ছিল বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ-র ব্রিগেড। বাম
ছাত্র-যুবরা জোটের এই ব্রিগেডের আগে ‘টুম্পা’ নামের একজনকে নিয়ে প্যারডি গান বেঁধেছিলেন। টুম্পা নামের বান্ধবীকে ব্রিগেড
যাওয়ার আবেদন ছিল গানের কথায়। সমসাময়িক রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিষয়ের উপর গান। গানটা
ব্যপক জনপ্রিয়ও হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় গান ভাইরাল হয়। সদ্য গঠিত সংযুক্ত মোর্চা-র
ব্রিগেডে তরুণ প্রজন্মের ছাত্র-যুবদের ভিড় ছিল নজরে পড়ার মতো। খুব বোঝা গেল বাম
তথা সিপিএম দলে ‘কালো চুল’-এর ভিড় বাড়ছে। এই বিষয়টা এসে গেল কারণ একদশক আগে ২০১১
সালে বামফ্রন্টের পতনের পরে দলের বিতর্ক ছিল কারা দলের রাশ ধরবে? সাদা চুলের পোড়
খাওয়া নেতা? না কালো চুলের তরুণ প্রজন্ম? প্রাক্তন সিপিএম এক নেতা তথা রাজ্য
কমিটির একজন সদস্য বলেছিলেন, দলে ‘কালো
চুল’-এর সদস্য কমে গেছে।
সেই নেতা এখন দল বদল করে তৃণমূলের নেতা এবং বিদায়ী মন্ত্রীসভার মন্ত্রী।
২০২১ সালের বসন্তের শুরুতেই এই জোট বার্তা দিল ‘বসন্ত এসে গেছে’। কংগ্রেস এবং
আইএসএফ দলের তরুণদের ভিড়ও তুলানমূলকভাবে সবার চোখে পড়েছে। কেউ কেউ পদাতিক কবি
সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মিথ হয়ে যাওয়া কবিতার লাইন উচ্চারণ করছিলেন, ‘ফুল ফুটুক না
ফুটুক আজ বসন্ত’। তরুণদের উপস্থিতির হার দেখেই কি সঞ্চালক হিসেবে অভিনেতা বাদশা
মৈত্রকে বেছে নিলেন প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা তথা বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু।
সিপিএম দলের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রও নিজের বক্তব্যের শুরুতেই উল্লেখ করেন
ছাত্র-যুবদের উপস্থিতির প্রসঙ্গ।
একজন লাল টুপি পড়া যুবকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, টুম্পার ভাইয়ের আজ এক
বছর কলেজ বন্ধ। অনলাইন ক্লাস বিষয়টা অতি দরিদ্র পরিবারের টুম্পারা বোঝে না। কেউ
কেউ বুঝলেও স্মার্ট ফোন, ট্যব কেনার সামর্থ তাঁদের নেই। করোনা আবহে ক্লাস না হোক
সেমিস্টারে ফি বাড়ানোর নোটিস ঠিক পেয়ে গেছে টুম্পার ভাই এবং অন্যরা। এই বিষয়গুলি
নিয়ে কোনও প্রতিবাদ নেই। টিভি খুললেই গোদী মিডিয়ার প্রচার। আর রাজ্যে ‘দল বদলু’-দের
খবর। টুম্পার ভাইদের চাকরি চাই। এই ব্রিগেডে উপস্থিত থেকে প্রতিবাদ জানাতে এসেছে
ওরা। পকেটে মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে বছরের পর বছর ঘুরছে রাজ্যের শিক্ষিত উচ্চ
শিক্ষিত যুবকদের দল কিন্তু চাকরি নেই। কাজ নেই। ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেডের আগে
বাম-কংগ্রেসের ছাত্র-যুব-দের ডাকে ১১ ফেব্রুয়ারি কাজের দাবিতে নবান্ন অভিযান ছিল।
সেদিন পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ হয়। মইদুল ইসলাম মিদ্যা নামে এক যুবকের মৃত্যুর কথা
মনে করিয়ে দিল যুব কংগ্রেসের একজন সদস্য। পাশে দাঁড়িয়ে
আইএসএফের সদস্য। ‘ভাইজান’-র কথায় সে ব্রিগেড এসেছে। আন এডেড মাদ্রাসার শিক্ষক
কিন্তু বেতন পাচ্ছেন না।




Comments
Post a Comment